রমজান মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে দিনের বেলা খাবারের দোকান খোলা রাখায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতির কথা বলে স্থানীয় বণিক সমিতি ও কিছু সংগঠন এ সিদ্ধান্ত নিলেও এতে অসুস্থ ব্যক্তি, শিশু, শ্রমজীবী ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা দুর্ভোগে পড়ছেন। ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন আর্থিক সংকটে।
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌর বাজারে স্থানীয় বণিক সমিতি নোটিশ দিয়ে জানায়, রমজানে সকাল থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত হোটেল-রেস্তোরাঁ ও চায়ের দোকান বন্ধ রাখতে হবে। নির্দেশ অমান্য করলে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। সুজাতপুর বাজারেও একই ধরনের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, সেখানে জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার টাকা।
ছেংগারচর বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, সব দোকান বন্ধ। চিকিৎসা নিতে আসা রহমত মিয়া (৬৫) বলেন, ‘সারা দিন না খেয়ে থাকব? ওষুধ খাওয়ার জন্যও তো কিছু দরকার।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রেস্তোরাঁ মালিক বলেন, ‘ব্যবসা বন্ধ, আয় বন্ধ। এবার ঈদে কীভাবে চলব বুঝতে পারছি না।’
এদিকে মাদারীপুরের শিবচরে হাজী শরীয়তুল্লাহ সমাজকল্যাণ পরিষদের পীরজাদা হানজালা রমজানে দিনে দোকান খোলা রাখার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি বলেন, ‘রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। দোকান খোলা থাকলে আমরা তা বন্ধ করব।’
তবে অনেকেই বলছেন, এমন নিষেধাজ্ঞা মানবিক ও সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। একাধিক প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।